কর্মক্ষেত্রে নীতির চেয়ে সহানুভূতি কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
আমাদের বাসার কেয়ারটেকার ছিলেন অত্যন্ত ডেডিকেটেড ও সৎ একজন মানুষ। নিজের নির্ধারিত কাজের বাইরে বাড়তি কাজও মন দিয়ে করে দিতেন। দীর্ঘদিনের এই নিষ্ঠা সত্ত্বেও, সম্প্রতি তার ভাই মারা যাওয়ায় ছুটি নিয়ে গ্রামে গিয়েছিলেন। নির্ধারিত এপ্রুভড ছুটির দুই দিন পর ফিরে আসায় বাড়িওয়ালা তার সেই দুই দিনের বেতন কর্তন করেন। এতে তিনি খুব কষ্ট পান। টাকার কারণে নয়, বরং এতদিনের সততা ও ডেডিকেশনের কোনো মূল্যায়ন হলো না বলেই তার মনে অভিমান জন্ম নেয়। তিনি ভেবেছিলেন, আপনজন হারানোর কষ্টটা মালিকপক্ষ বুঝবেন। কিন্তু সেই দুই দিনের বেতন কর্তন তার বিশ্বাস ও সম্পর্কের জায়গাটায় আঘাত করলো। শেষ পর্যন্ত অভিমানে তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেন। ফলে আমরা একজন ভাল কর্মী হারালাম। এখন বাড়ির সার্ভিসে ঘাটতি, এমনকি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। আমাদের কর্পোরেট লাইফেও প্রায় একই দৃশ্য দেখা যায়। একজন কর্মীর লজিক্যাল বা ইমোশনাল ইস্যুকে ইগনোর করার কারণে আমরা ট্যালেন্ট হারাই। অথচ একটু সচেতন হয়ে, কোম্পানির পলিসির মধ্যে থেকেই, যদি তাকে কিছুটা সাপোর্ট বা সান্তনা দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো সেই অভিমান ভাঙানো সম্ভব হতো। It’s all about relationship. পরিবারের কারো রাগ-অভিমানকে পাত্তা না দিলে যেমন সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও সম্পর্ক ভাঙনের সূত্রপাত হয়। অথচ অনেক সময় মাত্র কয়েকটি মিষ্টি কথা, সামান্য সহানুভূতি, বা তার অবস্থার প্রতি বোঝাপড়া করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমরা মানুষ। আমাদের আবেগ-রাগ, দুঃখ, অভিমান, সবই থাকবে। সব সময় সবার Emotional Intelligence সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই ম্যানেজার, লিডার বা HR হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, আমাদের কর্মীদের আবেগকে অগ্রাহ্য না করে, সেটিকে বুঝতে পারা, গাইড করা ও সঠিকভাবে নার্সিং করা। ভাল টিম বা ভাল প্রতিষ্ঠান গড়তে শুধু Policy নয়, Empathy-ও জরুরি।